ক্যারাভান নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। Hotel book করার ঝামেলা ও নেই, খাওয়া দাওয়া ও ঘোরাফেরার ও flexibility থাকে। Guide এর কাছে জানতে পারলাম অনেকেরই নিজস্ব ক্যারাভান আছে আবার কেউ কেউ ভাড়া করেও ঘুরতে বেরোয়।একটু শহরের কাছাকাছি আসতে রাস্তায় দেখলাম বেশীর ভাগ small car ই Elon Mask এর Tesla companyর electric vehicle.

অনেক Teslaর charging point ও চোখে পড়ল।আর Mercedes, BMW, Lamborghini এইসব high value car এর ছড়াছড়ি। প্রায় দুপুর 12.30-1.00 টার মধ্যে এসে পৌঁছলাম Oslo শহরের প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে। জায়গাটা অনেকটা কলকাতার Esplanade এর মতো। চারিদিকে বড় বড় অট্টালিকা। বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল প্রতিটা অট্টালিকার গায়ের অসাধারণ স্থাপত্য ও ভাস্কর্য।

এলাকাটা বিশেষভাবে পরিদর্শনের জন্য বাস থেকে নামিয়ে কিছুটা সময় দেওয়া হল আমাদের। দেখলাম শহরের মধ্যে দিয়ে দুর্বার গতিতে ছুটে চলেছে সেই ট্রাম, যেটা কলকাতায় এখন প্রায় অতীত। ট্রাম ওসলো, হেলসিঙ্কির আর কোপেনহেগেনের জনসাধারণের জন্য এক জনপ্রিয় পরিবহন।বাজার এলাকায় ঘুরতে ঘুরতে বেশ কিছু ভারতীয়দের departmental store ও খাবারের দোকান চোখে পড়ল। তারা ভারতীয় জেনে আমাদের বিশেষ খাতির ও করল।কেউ কেউ বিনা পয়সায় বিস্কুট, চকোলেট, চিপস্ ইত্যাদি খাবার জন্যে দিল।ওই এলাকায় কোন public toilet দেখতে না পাওয়ায় আমরা যখন বিভ্রান্ত, একজন পাঞ্জাবী দোকানদারের কাছে আমতা আমতা করে approach করতেই দোকানের ভেতরের toilet ব্যবহার করার সুযোগ করে দিল।দারুণ চাপ মুকত হলাম সবাই। কৃতজ্ঞতা জানানোর বিশেষ কোন ভাষা খুঁজে পেলাম না ধন্যবাদ জানানো ছাড়া। উপহার পাওয়া খাবারগুলো খেতে খেতে foot path দিয়ে হাঁটছি আর window shopping করছি বড় বড় দোকানের কাচের জানলা দিয়ে দারুন দারুন show pieceগুলো। আর মাঝে মাঝে ছবি তুলে চলেছি সুন্দর সুন্দর অট্টালিকায় খোদাই করা স্থাপত্যগুলোর।হঠৎ শঙ্কুবাবুর কণ্ঠস্বর শুনে বুঝলাম এবার বাসের দিকে যেতে হবে।


বাসে উঠে দেখি একজন বয়স্ক মহিলা বসে আছেন আর একে একে আমাদের সবাইকে greet করছেন। শঙ্কুবাবুর পরিচয়ন পর্ব থেকে জানলাম উনি আজ আমাদের বিকালের city tour এর guide. আবার শুরু হল guided tour. সবার জ্ঞাতার্থে জানাই city tour এর জন্য যে কজন

guide পেয়েছি সবাই retired local মহিলা বয়স 75-80. Fluent English এ কথা বলে। পরিচয় ও ভুমিকা পর্বের পর Guide চলমান বাস থেকে শহরের এক একটা বড় বড় অট্টালিকা দেখিয়ে তার সম্বন্ধে সংক্ষিপ্ত তথ্য দিতে থাকলেন। এইভাবে তথ্য সমৃদ্ধ হতে আমাদের বাস এক সুন্দর নক্সার বাড়ির সামনে এসে নামাল- লেখা আছে FRAM. এটা একটা museum যেখানে একদল যাত্রীর জাহাজে করে Arctic ও Antarctica এলাকা অভিযান সম্বন্ধীয় বিস্তারিত তথ্য ও সামগ্রী সংরক্ষিত আছে। জাহ
FRAM (মানে forward) সেই নামেই নামকরণ হয়েছে museum টার FRAM. স্টকহোমের vasa museumএর মতোই পুরো জাহাজটা এখানে সংরক্ষিত আছে সমস্ত অন্যান্য সামগ্রীর সাথে।1893 থেকে 1912 এই 19 বছরে FRAM নিয়ে বিভিন্ন অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন ফ্রিডতিয়ফ ন্যানসেন, ওটো সেরড্রুপ, অস্কার উইস্টিঙ্গ এবং রোআল্ড আমুন্ডসেন।ন্যানসেন যাত্রা করেন 1893-1896 periodএ। ন্যানসেনের অভিযানের FRAM Arctic বরফের নীচ দিয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে বয়ে যাওয়া দুর্বার গতির সামুদ্রিক current এর force কে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে উত্তর মেরু পৌঁছাতে পারেনি। তিন বছর বরফের মধ্যে আটকে থাকার পর ফিরে আসে।1898 সালে FRAM কে একটু modify করে কানাডার arctic দ্বীপে scientific expeditionএ যান ওটো সেরড্রুপ 17 জন সহযাত্রী নিয়ে geology, flora ও fauna exploreকরার জন্য ।তার এই expeditionশেষ হয় 1902 সালে। এরপর রোআল্ড আমুন্ডসেন 1910-12 সালে FRAM নিয়ে দক্ষিণ মেরু অভিযানে যান।তিনিই সর্বপ্রথম পা রাখেন দক্ষিণ মেরু তে।


এই museum এ FRAM এর বিভিন্ন অভিযানের বিবরণ, যাত্রার video ও দারুণভাবে সংরক্ষিত জাহাজের সমস্ত অংশ পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে দেখে FRAM ,এর সঙ্গে নিজেদের ছবি ক্যামেরা বন্দি করে বাসে ফিরতে প্রায় আধ ঘন্টা সময় লেগে গেল।পুনরায় শুরু হল guided tour.ওসলো শহরের গুরুত্বপূর্ণ সব অট্টালিকা যেমন পার্লামেন্ট, National Theatre house, University of Oslo , City hall, SAzLT_art and museum, Oslo central station ইত্যাদি

চলমান বাস থেকে guide দেখিয়ে সংক্ষেপে সেই সম্বন্ধীয় তথ্য আমাদেরকে জানাতে থাকলেন।কথায় কথায় এটাও জানালেন সব ধরণের উপার্জনকারীদেরই tax দিতে হয়। তবে education ও healthcare absolutely tax free এবং এখানকার সরকার বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য ও ছাত্র ছাত্রীদের সর্বতোভাবে সাহায্য করে।নিজের দুই সন্তানের উদাহরণ দিয়ে বললেন একজন আমেরিকা থেকে ও অপরজন অস্ট্রেলিয়া থেকে সরকারি পয়সায় উচ্চশিক্ষা লাভ করেছে। বেশ কিছুটা ওসলো শহরের মধ্যে দিয়ে guided tour করার পর আমরা ওসলো ফিওর্ডের পাশ দিয়ে যেতে থাকলাম। এক জায়গায় হারবারের কাছে এসে দেখলাম প্রচুর boat নোঙর

করা আছে । কৌতূহলী হয়ে guide এর কাছে জিজ্ঞাসা করে জানলাম এখানে প্রত্যেক familyর car এর সাথে সাথে একটা করে নিজস্ব boatও আছে। সেগুলো বিভিন্ন হারাবার নোঙর করা থাকে। এই শহরের মধ্যেও দেখলাম এক সুন্দর তৃণভূমি, সেখানে বেশ কিছু স্বাস্থ্যবান গরু চড়ে বেড়াচ্ছে। আমাদের বাংলার গরুর চেহারা চোখে ভেসে আসায় একটু দীর্ঘশ্বাস পড়ল।এইভাবে কিছুক্ষণ চলার পর আমরা বাস থেকে নামলাম ওসলো ফিওর্ডের একদম মাথায় অবস্থিত দারুন architecture এর নিদর্শন ওসলো অপেরা হাউসের সামনে। এখানে guide আমাদের কে
শুভেচ্ছা জানিয়ে বিদায় নিল।নরওয়ের জাতীয় অপেরার ও

ব্যালের performance এখানেই হয়। এই বিশাল structure এর মধ্যে আছে 49000বর্গমিটার জায়গা জুড়ে 1100 ঘর।Main অডিটোরিয়ামে 1364 বসার জায়গা আছে।দুটো অন্য হলে 200 ও 400 জন বসতে পারে। পুরো building টার বাইরের surface Italy র Carrara থেকে আনা marbleআর সাদা granite দিয়ে ঢাকা যাতে মনে হয় যেন এটা জল থেকে উঠে এসেছে। একটু দূর থেকে বাস্তবে সেটাই মনে হচ্ছিল। রাস্তা থেকে হেঁটে Buildingএর ছাদে গিয়ে Oslo শহরের Panoroma view উপভোগ করার জন্য সুন্দর চওড়া ramp করা আছে।


ভেতেরের surfaceওটা একটু উষ্ণ রাখার জন্য ওক কাঠ দিয়ে ঢাকা। প্রধান অডিটোরিয়ামে ঘোরার ক্ষুরের আকৃতির। আর এটাকে আলোকিত করা হয় 5800 হাতে তৈরি crystal সমৃদ্ধ ঝাড়বাতি দিয়ে। প্রত্যেকটা seat এ monitor attachedআছে electronic systemএর মাধ্যমে ইংরেজি বা নরওয়ের ভাষায় গান বা যাত্রার লিপি অনুসরণ করার জন্য।অনেক রকমের স্থাপত্যের মধ্যে মণিকা বনভিসিনির stainless steel ও glass panel দিয়ে তৈরি "She lies"সবচেয়ে বেশী নজর কাড়ার মত।এটা অপেরা হাউসের পাশে স্থায়ীভাবে স্থাপন করা একটা 12m উঁচু, 17 m লম্বা ও 16 m চওড়া ত্রিমাত্রিক structure যেটা একটা concrete platformএর ওপর ফিও র্ডের জলের ভেসে থাকে। এই সুন্দর স্থাপত্য জলের ঢেউ আর বাতাসের সাথে নিজের অক্ষে ঘোরার সময় জল স্বচ্ছ মাধ্যমে দিয়ে আলোর প্রতিফলনের মাধ্যমে অনবরত নতুন নতুন চিত্তাকর্ষক দৃশ্য সৃষ্টি করে দর্শকদের মনোরঞ্জন করে।2009 সালে Oslo অপেরা হাউসকে "European union prize for contemporary architecture" পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।2010 সালে এটা "European prize for urban space" পুরস্কার ও জিতে নেয়।


অপেরা হাউস প্রাঙ্গনে এবং ফিওর্ডের পাশে বেশ কিছুটা সময় কাটিয়ে আমরা আবার বাসে করে শহর পরিদর্শন করতে একদম এসে নামলাম পার্লামেন্ট হাউসের সামনে। সেখানে বেশ কিছু মানুষের জটলা দেখে ও একটু হই হট্টগোল শুনে কৌতূহলী হয়ে এগিয়ে গিয়ে দেখলাম প্যালেস্টেনিয়ানদের ইসরায়েলের অত্যাচারের বিরুদ্ধে তৈরী হয়েছে প্রতিবাদ মঞ্চ। প্রস্তুতি চলছে ফেস্টুন ও microphone নিয়ে মিছিল করার।
station, National theatre হয়ে foot path ধরে University of Osloর পাশ দিয়ে হাঁটছি হঠৎ কানে ভেসে আসল কোলকাতার মতো পরিচিত slogan এর আওয়াজ। প্যালেস্টেনিয়ানদের প্রতিবাদ মিছিল তখন আমাদের পাশাপাশি main road দিয়ে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে slogan দিতে দিতে এগিয়ে চলেছে।ওদের মধ্যে কয়েকজন আমাদের চামড়ার রঙ দেখে এগিয়ে এসে আমাদের সঙ্গে পরিচয় করে ভারতীয় জানতে পেরে খুব excited হয়ে গেল ওদের supporter ভেবে। মনে মনে ভাবলাম ওরা এখনো সেই ইয়সার আরাফতের যুগের কথা ভেবে ভুল ধারণা নিয়ে আছে।
ওদের মধ্যে কয়েকজন আমাদের চামড়ার রঙ দেখে এগিয়ে এসে আমাদের সঙ্গে পরিচয় করে ভারতীয় জানতে পেরে খুব excited হয়ে গেল ওদের supporter ভেবে। মনে মনে ভাবলাম ওরা এখনো সেই ইয়সার আরাফতের যুগের কথা ভেবে ভুল ধারণা নিয়ে আছে।ওদের মধ্যে কয়েকজন আমাদের চামড়ার রঙ দেখে এগিয়ে এসে আমাদের সঙ্গে পরিচয় করে ভারতীয় জানতে পেরে খুব excited হয়ে গেল ওদের supporter ভেবে। মনে মনে ভাবলাম ওরা এখনো সেই ইয়সার আরাফতের যুগের কথা ভেবে ভুল ধারণা নিয়ে আছে।
বর্তমান ভারতের পরিবর্তিত বিদেশনীতি সম্বন্ধে idea না থাকায় বার বার আমাদের অনুরোধ করল মিছিলে সামিল হবার জন্য। কেউ এগিয়ে এল fund collection এর donation box নিয়ে। বিদেশে বেড়াতে এসে এইসব আন্দোলন সামিল হয়ে কেউ ই চাইলাম না বিন্দুমাত্র বিপদের ঝুঁকি নিতে। সবিনয়ে অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে আমরা এগিয়ে চললাম পরবর্তী গন্তব্যস্থল রয়্যাল প্যালেসের দিকে। শহরের topography একটু undulating. প্যালেস টা একটু উঁচু জমিতে। বিশাল তার পরিব্যাপ্তি।প্যালেসের এলাকায় ঢুকেও প্রচুর হেঁটে চলেছি একদম প্রবেশ দ্বারে পৌঁছানোর জন্য। একের পর এক বিশাল মাঠ, সুন্দর
lawn, বাগান পেরিয়ে যাচ্ছি রাস্তা আর শেষ হয় না।


তারপর সুন্দর ভাস্কর্যের নিদর্শন একটা statue র কাছে এসে মনে হল অনেকটা কাছে এসে গেছি। প্রবেশ দ্বারের কাছে এসে দেখলাম একজন security প্রায় statue র মতো দণ্ডায়মান। Royal palace হল নরওয়ের রাজকীয় পরিবারের সরকারী থাকার জায়গা। এটা স্থাপিত 1848 সালে। 177 বছর ধরে রাজকীয় ঐতিহ্যকে বহন করে চলেছে। বর্তমান রাজা King Harald V সপরিবারে এই palaceএ বাস করেন। জানলাম ভেতরে ঢোকার অনুমতি নেই। কিন্তু securityর dress পড়া অবস্থায় স্থির মূর্তির মতো অবস্থান দেখে প্রথমেই ওর সঙ্গে ছবি তোলার লোভ সামলাতে পারলাম না।

তারপর এই সুন্দর খোলামেলা পরিবেশে অনেকক্ষণ সময় কাটিয়ে আর বিভিন্ন খুটিনাটি explore করে রয়্যাল প্যালেসেকে background করে নিজদের ছবি নিয়ে একই পথে ফিরে এসে পার্লামেন্ট সামনেই এসে মিলিত হলাম।

ওসলোর city centre এ Frea chocolate factoryর পাশ দিয়ে যাবার সময় নজরে এল রাস্তার ওপর chocolate factoryর মাথার ওপর display করা অসাধারণ একটা ঘড়ি, দেখে চোখ জুড়িয়ে গেল। এছাড়া grand hotel, অন্যান্য দর্শনীয় buildingও বিভিন্ন mall ঘুরে পৌঁছলাম নৈশভোজের জন্যে এক সর্দারজীর Indian restaurant এ।নৈশভোজের পর

সারাদিনের ওসলো শহর ভ্রমণ সেড়ে আমরা উঠলাম এক বিলাসবহুল 4star হোটেলে। কিন্তু আমাদের এই বিলাসিতা উপভোগ করার সময় এই রাতটুকু। তাই বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে আরামের shower নিয়ে ক্লান্ত শরীর বিছানায় ফেলে ঘরের ambience উপভোগ করতে করতে নিদ্রায় মগ্ন হলাম।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন