কাফেরগাঁও ভ্রমণ
কাফেরগাঁও ভ্রমণ
চা বাগান এলাকায় প্রবেশ করলাম দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মন আনন্দে ভরে উঠল। চা বাগানের মধ্যে group ফটো তুলে মুহূর্তটাকে ক্যামেরাবন্দি করে রাখলাম। এরপর শুরু হল পাহাড়ি সর্পিল রাস্তা। উঁচু পাহাড়ে চড়তে চড়তে চারপাশের slope এ বনরাশি, গভীর খাদ, নীচে বয়ে যাওয়া নদীর সুতোর মতো দৃশ্য উপভোগ করতে করতে এগিয়ে চললাম গন্তব্যস্থলের দিকে। বেশ কিছুটা যাত্রার পর দেখলাম আমাদের গাড়ি একটা অদ্ভুত loop এর মতো রাস্তায় প্রবেশ করতে যাচ্ছে। আমাদের চালক জানালো এটাই দর্শনীয় Bagrakote loop উড়ালপুল। গাড়ির চালক নিজেই আমাদের চলন্ত অবস্থায় এই loop এর video তুলে দিল।আর জানাল এখানে একটা সুন্দর view poin আছে যেখান থেকে পাহাড় ও তিস্তা নদীর 360ডিগ্রি view পাওয়া যায়। কিন্তু কয়েকটা ছবি ও videoতুলতে গিয়ে accident এর পর ওখানে নেমে ছবি তোলা নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। আমরা চলন্ত গাড়ির জানীলা দিয়েই সেই নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করলাম। View point এর কাছের রাস্তার মোমোর stall গুলো যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছিল, অনেক কষ্টে লোভ সংবরণ করে এগিয়ে চললাম। দুপুর গড়িয়ে অনেকক্ষণ হয়ে গেছে বিকেল।চা- কফি ও হালকা snacks এর জন্য মন আনচান করছে।গাড়ির চালক ও জানাল সকাল থেকে কিছু খাওয়া হয়নি। এর সঙ্গে একটু ছোট বাইরের চাপ সবারই
আসতে শুরু করেছে প্রায় তিন ঘন্টা journeyর পর।বিকেলের
পর সন্ধ্যা নামার মুখে এমন একটা দোকান পাওয়া গেল যেখানে আমাদের সব প্রয়োজনই মিটবে।
প্রথম তাগিদই হল ছোট বাইরে যাবার, কিন্তু
রাস্তা ভীষণ সরু ও নীচে বড় খাদ।অগত্যা সেখানে পৌঁছানোর আর ফেরার জন্য চালকের support নিতেই হল।ভীষণ স্বচ্ছ ও
পরিষ্কার toiet স্থানীয় বাসিন্দাদের দৃঢ়
স্বাস্থ্য সচেতনতার পরিচয় বহন করে।ইতিমধ্যে দাদা steamed chicke
n মোমো ও চায়ের order করে
ফেলেছে আমাদের জন্য আর গাড়ির চালকের জন্য তার পছন্দমতো পেট ভরা খাবার। খাবার তৈরি
হবার ফাঁকে আমরা পাহাড়ের কোলের এই ছোট্ট বাড়ি কাম দোকানের চারপাশটা একটু ঘুরতে
গিয়ে দেখলাম মেঘ আর দুই পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে দিনমণি অস্ত যাচ্ছেন আর স্বল্প
মেঘাচ্ছন্ন পশ্চিম আকাশে রঙের খেলায় অপরূপ দৃশ্যের সৃষ্টি হচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে। এই
সুন্দর প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ আর ক্যামেরা বন্দির মাঝেই দোকানদারের বার্তা এল
খাবার প্রস্তুত হবার। গরম মোমো ও চায়ের ঠান্ডা করে খাবার কোন মানে হয় না। তাড়াতাড়ি
দোকান চত্বরে ফিরে এসে খাওয়া দাওয়া করে
চঞ্চল পেনকে শান্ত করে পরিতৃপ্ত মনে আবার যাত্রা শুরু করলাম। কিছুক্ষণ 


পর অন্ধকার
নেমে এল আর মিনিট চল্লিশ চলার পর একটা জায়গায় এসে বেশ কিছু দোকান আর আলোর ঝলকানি
দেখে গাড়ির চালকের কাছে জানলাম আমরা পৌঁছে গেছি লোলেগাঁও।এর পরে শুরু হল একটু নীচে
নামা জনবসতি বিহীন ঘন বনের মধ্যে দিয়ে। আর বিভন্ন পোকার অদ্ভুত এক শব্দ। গা বেশ
ছমছম করছিল।তবে বেশীক্ষণ আর এই thrill টা নেবার সৌভাগ্য হল না।মিনিট দশেক পরেই
দেখলাম বেশী আলো দিয়ে সুসজ্জিত এক বড় চত্বরের সামনে এসে থামল আমাদের গাড়ি। বুঝলাম
এটাই আমাদের থাকার জায়গা "কাফের হোম স্টে"। একজন সুদর্শন যুবক বেরিয়ে
এসে নিয়ে গেল bookকরা আমাদের নির্ধারিত ঘরে।দুটো ঘরের common balcony. পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে
দার্জিলিং চায়ের স্বাদ নিয়ে বেশ চাঙ্গা হয়ে গেলাম। ক্যাম্পাসের সুন্দর পরিবেশে
একটু ঘোরাফেরা করতে করতে সময় হয়ে গেল
নৈশভোজের। সুস্বাদু মুরগীর মাংস,মিশ্র তরকারি
রুটি সহযোগে খাবার পর ব্যালকনিতে এসে কিছুক্ষণ বসতেই চোখের পাতা ভারী হয়ে
গেল।ঘর বা ব্যালকনি থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা
দেখার দিক ও জায়গা
confirm করে, ক্লান্ত শরীরটাকে বিছানায় এলিয়ে দিলাম। অচিরেই
নিদ্রাদেবী গ্রাস করে ফেললেন। রাতে শোবার আগে এখানকার staff এর কাছে শুনেছিলাম
সারাদিন কাঞ্চনজঙ্ঘার clear view পাওয়া গেছিল।তাই subconscious mind এ
কাঞ্চনজঙ্ঘার পরিষ্কার viewদেখার আশা কাজ করছিল।সেইজন্যই হয়তো বেশ ভোরেই ঘুম ভেঙে
গেল। জানলার পর্দা একটু ফাঁক করে পাহাড়ের 
দিকে তাকিয়ে দেখলাম একটা ধবধবে সাদা চুড়া মেঘের মধ্যে দিয়ে জ্বল জ্বল করছে। আমি চরম
উত্তেজনায় আরো clean view পাবার আশায় ব্যালকনিতে mobile নিয়ে এসে দাঁড়ালাম। একটা
মূহুর্তও miss করা চলবে না।একে একে আমার স্ত্রী ও দাদা বৌদি এসে হাজির হল কাঞ্চনজঙ্ঘার
clear view পাওয়ার আশায়। ক্রমশঃ হাওয়ায় মেঘ সরে যেতে থাকল আর আমাদের ইপ্সিতা কাঞ্চনজঙ্ঘা আংশিক থেকে সম্পূর্ণভাবে উন্মোচিত
হতে থাকলেন। একে একে Sleeping Buddhoও আরো
কয়েকটা শৃঙ্গসহ সম্পূর্ণ range অবিশ্বাস্যভাবে
আমাদের সামনে পরিষ্কারভাবে ধরা
দিল।মন প্রাণ ভরে আমরা ব্যালকনি থেকে প্রায় চার
পাঁচ ঘন্টা ধরে এই নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করলাম ও অসংখ্য ছবি তুললাম বিভিন্ন stageএ।
এই
প্রথম আমাদের এত কাছ থেকে সম্পূর্ণরূপে পরিষ্কারভাবে কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন। ভাগ্যে
সংবাদমাধ্যমের প্রচারে ভয় পেয়ে পিছিয়ে না গিয়ে অনেক আশা ও সাহস নিয়ে
এসেছিলাম।আমাদের আশা পূরণ হবার জন্য অদৃষ্টকে অনেক ধন্যবাদ জানালাম। হোম স্টে টা
এমন জায়গায় অবস্থিত যে আকাশ পরিষ্কার থাকলে ভেতরের যেকোনো জায়গা থেকেই clear view পাওয়া
যায়। সুন্দর একটা view point ও আছে। জৈব বাগান পরিবৃত ওই view point
এ বসে দিনের বেশীর ভাগ
সময় কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে
দেখতে নির্ভেজাল আড্ডার মধ্যে দিয়ে কেটে গেল।পাহাড় ও বনরাশি পরিবৃত পরিবেশে এমন
একটা মনোরম relax করার জায়গা মনের মধ্যে বিশেষ জায়গা করে নিল।আর হোম স্টের মালিকের
সমগ্র পরিবার এর সঙ্গে যুক্ত। সারাদিন ধরে প্রত্যেককে সাফাই, রান্না, gu
estদের reception,চা, breakfast,lunch
dinner serve করা, বাগানের কাজ, পোষা গরুর দুধ দোয়া, guest দের বিছানার চাদর তোয়ালে
কাচা, সর্বোপরি সব সময়
হাসি মুখে অতিতাদের ফাই ফরমাশ খাটা ও আপ্যায়ন করতে দেখে
আমরা মুগ্ধ। প্রত্যেক সদস্যের অমায়িক ব্যবহার, আন্তরিকতা ও সহযোগিতা আমাদের মন ছুঁয়ে গেল।ভোর থেকে
সারাদিন কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য সহ এখানকার সামগ্রিক পরিবেশে প্রথম দিনেই আমরা
অভিভূত।
সন্ধ্যাবেলার চা পাকোরার sessionএর পর মালিক সুনীল তামাং এর কাছে গেলাম
পরের দিনের local sight seeing র ব্যাপারে guidance নিতে। উনি বললেন তিন চার
কিলোমিটারের মধ্যে জঙ্গলে isolated জায়গায় একটা Sunrise point আছে।যেহেতু এখন আকাশ
পরিষ্কার এখন, ভোরবেলা ওখানে গেলে সুন্দর সূর্যোদয়ের সঙ্গে কাঞ্চনজঙ্ঘায় সূর্যের
রস্মির প্রতিফলনের অপরূপ দৃশ্যও দেখার সম্ভাবনা আছে। ওনার এই proposalএ সম্মতি
জানাতেই পরের দিন ভোরবেলায় গাড়ির ব্যবস্থার জন্য ওনার ভাই এর সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিলেন। তার সঙ্গে
কথাবার্তা
বলে ঠিক হল পরের দিন ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ ওনার ভাই নামা তামাং রওনা হবে
আমাদের নিয়ে Sunrise পয়েন্টের উদ্দেশ্যে।
যথারীতি ভোর সাড়ে চারটে
নাগাদ অন্ধকার ভেদ করে নির্জন বনের মধ্যে দিয়ে আমাদের নিয়ে ছুটে চলল নামা তামাং এর
Bolero গাড়ি। মিনিট পনেরো ঘন বনের মধ্যে দিয়ে ভ্রমণের পর যখন একটু ফাঁকা জায়গায়
এলাম একটু একটু আলো ফুটছে আর পূর্বাকাশে শুরু হয়েছে রঙের খেলা। অল্প কিছুক্ষণের
মধ্যে লাল হলুদ রঙ পূর্বাকাশের অনেকটা এলাকা দখল করে ফেলল।মনে হল কে যেন আবীর
ছড়িয়ে দিয়েছে ভোরের আকাশে। এই দৃষ্টিনন্দন আবীর খেলা দেখতে দেখতে আমরা Sunrise
view point এর পাদদেশে পৌঁছে গেলাম। ওখান থেকে Sunrise view pointএ পৌঁছানোর রাস্তাটা বেশ
খাড়া। অনেক কসরত করে উঠতে উঠতে আমরা চারজন বুড়ো বুড়ি বেশ হাঁপিয়ে উঠলাম। তবে ওপরে
পৌঁছানোর সাথে সাথে মন আনন্দে ভরে গেল। একদিকে পূর্বাকাশে রঙ্গিনী শোভা আর পশ্চিম
দিকে জ্বল জ্বল করছে তুষারাবৃত স্বচ্ছ কাঞ্চনজঙ্ঘা। আমাদের level থেকে অনেকটা নীচে
রয়েছে সাদা মেঘের আস্তরণ।সবমিলিয়ে অপূর্ব এক360ডিগ্রি দৃশ্য।

Background এ অপরূপ
কাঞ্চনজঙ্ঘাকে রেখে বেশ কয়েকটা ছবি তুললাম। ঘড়ির কাঁটা য় তখন প্রায় সাড়ে পাঁচ টা।
কাঞ্চনজঙ্ঘার একদম চূড়া টা জ্বল জ্বল করে উঠল। প্রাক সূর্যোদয় মূহুর্তের প্রথম আলোর ছটার প্রতিফলনে চূড়াটা প্রথমে গোলাপী হয়ে গেল।নয়নাভিরাম এই দৃশ্য দেখে আমরা
সবাই উল্লাসে ফেটে পড়লাম। "আহা কী
দেখিলাম! জন্ম জন্মান্তরেও ভুলিবে না।পূর্ব দিকের পাহাড়ের পেছন থেকে তখন
সূর্য দেবতা উঁকি মারতে শুরু করে দিয়েছেন আর আলোক রস্মির কাঞ্চনজঙ্ঘায় প্রতিফলিত
হয়ে আমাদের চারিদিকে সৃষ্টি হয়েছে এক
অপরূপ মায়াবী পরিবেশ। কোন দিক থেকেই চোখ ফেরানো 
থাকলাম আর যতটা সম্ভব মন ও মোবাইল ক্যামেরায় বন্দী করার চেষ্টা করলাম প্রায় তিন ঘন্টা
ধরে।অত্যন্ত সুন্দর সূর্যোদয় দর্শনের পর নেমে এলাম লোলেগাঁও শহরে। অতি ভোরে বেরিয়ে
এতক্ষণ ধরে সূর্যোদয় ও কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য উপভোগের পর একটু চা না খেলেই নয়! 
শহরে 

কয়েকটাই চায়ের দোকান তখন সবে ঝাঁপ খুলেছে। আমাদের চালক কাম গাইড নামা তার
পরিচিত এক দোকানে নিয়ে গেল। সেখানেও জানলা দিয়ে রৌদ্রজ্বল কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য
দেখতে দেখতে অত্যন্ত তৃপ্তিভরে স্থানীয় বেকারির বিস্কুটের সাথে দার্জিলিং চা পান করলাম। চা পানের বিরতির পর আবার গাড়িতে চড়ে
বসলাম। এবার গন্তব্যস্থল ডাবলিন 360 ডিগ্রি view point. এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা
ছাড়া ও সিকিমের নাথুলা পাস, এদিকে Mount Everest, আরো বিভিন্ন পাহাড়ের range, দূরে
নীচ দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা ও তার উপ নদী সব মিলিয়ে চারদিকের
সুন্দর wide view পেলাম। এই point টা এত আকর্ষণীয়ও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এখান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দুটোই পরিষ্কার দেখা যায়। তাছাড়া একটা ছোট skywalk ও আছে আর ফটো ও selfie
নেবার জন্য ফুলের গাছ দিয়ে উপযুক্ত ভাবে সাজানো। ওখানে বসে 360 ডিগ্রির কাঞ্চনজঙ্ঘাসহ পাহাড়, নদী, ও বনরাশির cmprehensive
viewউপভোগ করতে করতে আর নীচে নামতে একদমই ইচ্ছা করছিল না।কিন্তু প্রায় 10 টা বেজে
যাওয়ায় পেটে ছুঁয়ো ডন মারতে শুরু করেছে। Home stay তেও আমাদের জন্য লুচি তরকারি break fast অপেক্ষা
করছে। অগত্যা সুন্দর একটা ভোর ও সকালের
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মনপ্রাণ ভরে উপভোগ করে
home stay তে ফিরে এলাম।সূর্যোদয়ের সাথে সাথে কাঞ্চনজঙ্ঘার ঘন ঘন রঙ পরিবর্তন ও
অদ্ভুত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দৃশ্য এমনভাবে মন ক্যামেরায় বন্দী হয়ে গেছে যে সবসময়
মন চোখের সামনে ভাসিয়ে আমায় আনমনা করে দিচ্ছে। প্রাতঃরাশ থেকে মধ্যাহ্নভোজের মাঝের
সময় টা homestay র view point এ রোদ ঝলমল কাঞ্চনজঙ্ঘাকে সামনে রেখে নিজেদের মধ্যে 
আড্ডা মেরেই কেটে গেল।মধ্যাহ্নভোজের পর
আমরা homestay র জৈব বাগান, নার্সারি, ও
অন্যান্য infrastructure ঘুরে ঘুরে দেখলাম। অনেকটা জায়গা জুড়ে দেখলাম স্কোয়াস
সব্জি লাগানো আছে।এছাড়া আছে বাঁধাকপি,
ঢেঁরস,লেটুস ও নানাধরনের শাক।আমাদের খাবার টেবিলে বাগানের শাক সবজি ই
রান্না করে serve করতেন। এমন কি নিজেদের গরুর দুধ ও খাইয়েছেন।দুদিন ধরেই দেখছিলাম
একজন বেশ বয়স্ক লোক উঁচু নীচু পাহাড়ি রাস্তায় লাঠিতে ভর করে অনর্গল হেঁটে চলেছেন।Homestay
র বাগান ও অন্যান্য infrastrucure explore করে যখন আবার view point এ বসলাম
ততক্ষণে কাঞ্চনজঙ্ঘা
মেঘের আবরণে আমাদের আড়ালে চলে গেছে। ওই বয়স্ক ভদ্রলোক হাঁটতে হাঁটতে একটু বিশ্রামের জন্যই হয় তো আমাদের পাশে এসে বসলেন। নিজে থেকেই আমাদের সঙ্গে আলাপ করলেন। কথায় কথায় জানলাম উনি homestayর মালিকের কাকা।বয়স প্রায় পঁচাশী।হাতে ছিল একটা বাঁশি।মনোরঞ্জনের জন্য বাজান বাঁশি। আমাদের অনুরোধে বাজালেন কিছুক্ষণ। এই বয়সে কি যে অসাধারণ বাজালেন বলে বোঝাতে পারব না।আমরা মুগ্ধ হয়ে গেলাম। হাসিমুখে আমাদের সঙ্গে অনেকক্ষণ গল্প করলেন এই homestay র গড়ে ওঠা নিয়ে, নিজেদের family নিয়ে। Diabetes থাকার জন্য ডাক্তার হাঁটতে বলেছেন তাই তিনি এই রাস্তায় রোজ দিনে 3 কিমি করে হাঁটেন। এই বয়সের গুরুজনসম একজন লোকের সক্ষম ও সাবলম্বী হয়ে বাঁচার লড়াই দেখে খুব impressed হলাম। ওনার সঙ্গে সময় কাটাতে কাটাতে পাকরার সাথে সান্ধ্য চা পানের সময় হয়ে এল।Room service boy সন্দীপ চা ও পাকোরার tray নিয়ে পৌঁছে গেছে আমাদের ব্যালকনিতে।আমাদের অনুরোধে পাকোরার জায়গায় আজ এসেছে momo.তাই ওই বয়স্ক ভদ্রলোককে সশ্রদ্ধ প্রণাম ও বিদায় জানিয়ে মোমো সহকারে চা পানির্ জন্য ব্যাকলোনিতে এসে হাজির হলাম। পাহাড়ের range এর দিকে তাকিয়ে দেখলাম মেঘ কিছুটা পড়ে যাওয়াতে চূড়াসহ কাঞ্চনজঙ্ঘার বেশ
কিছুটা অংশ
আবার পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। দিনমণি তখন প্রায় অস্তগামী। তার আলোর ছটায় তুষারাবৃত কাঞ্চনজঙ্ঘার
রঙ যেন হালকা বাদামি, আকাশে তখন নানা রঙের মিশ্র আভা। সূর্রাস্তার পর অন্ধকার না
নেমে আসা পর্যন্ত আমরা এই দৃশ্য উপভোগ করলাম।
অস্তগামী সূর্যের আলোয় উদ্ভাসিত কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখার সৌভাগ্য হল।অদৃষ্টকে
অনেক ধন্যবাদ জানালাম এত নয়নাভিরাম জিনিস আমাদের উপহার দেবার জন্য। এরপর শুরু হল
সুস্বাদু ঘরোয়া মোমো সহকারে চা পান ও সান্ধ্য আড্ডার আসর।দূরে তাকিয়ে দেখলাম অন্য
এক tourist গ্রুপ bon fire করছে lawn এ।চারদিকের গাছে লাগানো নানারঙের bulbগুলো
জ্বলে উঠেছে।Kafer Homestay রাতের আলোকসজ্জায় যেন এক অপরূপ সুন্দরীর রূপ ধারণ করেছে। দূরে
পাহাড়ের মাঝে কালিম্পং শহরের আলোগুলো যেন তারার মতো মিটিমিটি করছে।ব্যালকনি থেকে
রাতের homestay ও পাহাড়ি পরিবেশ উপভোগ করতে এল নৈশভোজের জন্য ডাক।আজকের men
u রুটি আর mutton !তাই দেরি
করা গেল না।অবিশ্বাস্য সুস্বাদু mutton খেয়ে কিছুক্ষণঘোরাফেরারপর।আজকের ঘটনাবহুল দিনের ইতি
টানলাম।
আজও বেশ ভোরেই ঘুম ভাঙল।
ভোরের কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার ইচ্ছা মনের মধ্যে থেকেই যায়। জানলার পর্দা সরিয়ে দেখলাম
হালকা হালকা মেঘের মাঝখান দিয়ে ভোরের দিনমণির আলোয় উজ্জ্বল গোলাপী কাঞ্চনজঙ্ঘার বেশীর ভাগ অংশ উঁকি মারছে ।
এরপর ব্যালকনি থেকে মেঘের মধ্যে দিয়ে লুকোচুরি খেলা দেখতে দেখতে বেশ কিছুটা
সময় কেটে গেল। Morning tea র
সময় হতেই না হতেই পুরো কাঞ্চনজঙ্ঘা ধীরে ধীরে ধীরে
মেঘের আড়ালে চলে গেল। Breakfast এর পর থেকেই অনেক পার্টি বিদায় নিল।আবার নতুন tourist
পার্টির আগমন ঘটল।ততক্ষণে কাঞ্চনজঙ্ঘার কোন অস্তিত্বই আর বোঝা যাচ্ছে না। সমস্ত
সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে অনেক দিন পর কাঞ্চনজঙ্ঘার ও sleeping Buddha র
সুন্দর view পাবার কথা।নতুন tourist রা সবাই এসে আমাদের গত দুদিনের অভিজ্ঞতার কথা জিজ্ঞাসা
করছিল আর আমাদের মুখে সেইসব নয়নাভিরাম দৃশ্যের বর্ণনা ও ছবি দেখে আজকের পরিস্থিতির
সঙ্গে তুলনা করে হা হুতাশ করছিল।আমরাও স্বান্তনা দিলাম এই বলে যেকোনো মূহুর্তে
আকাশ পরিষ্কার হলে আবার সুন্দর দর্শন হতে পারে। Breakfast এর পর ঘন্টা খানেক home
stayর আশপাশের এলাকায় পাহাড়ী রাস্তায় ঘোরাফেরা করে স্থানীয় লোকের ঘরবাড়ি ও
জীবনযাত্রা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হলাম। জৈব শাক-সব্জির বাগানের সঙ্গে সঙ্গে ছাগল ও
মুরগি পালনও চোখে পড়ল। সব homestay তেই খাবার জলের সরবরাহ হয় পাহাড়ের ওপরের ঝর্ণা
থেকে। বনের মধ্যে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সেই সব জল সরবরাহের pipe line ও চোখে পড়ল।
চারদিকটা বেশ কিছুক্ষণ exploreকরার পর ফিরে এলাম আবার আমাদের homestay র view
point এর আড্ডায়। সেখানে আরো কিছু নতুন touristদের সঙ্গে পরিচয় ও গল্প হল।সবার মনে
একই উৎকন্ঠা-কাঞ্চনজঙ্ঘার view পাবো তো?পরিচয়, গল্প, আড্ডা ও অভিজ্ঞতার আদানপ্রদান
চলতে চলতেই হয়ে গেল মধ্যাহ্নভোজের সময় ।আমাদের মতো বাঙ্গালী touristদের কথা ভেবে
হয়েছিল মাছের আয়োজন।মহানন্দে তৃপ্তিভরে মধ্যাহ্নভোজ সাড়লাম।তারপর দেখলাম মালিক
সুনীল তামাং একটু বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছে আর হন্তদন্ত হয়ে ছুটোছুটি করছে।তার এই
ব্যস্ততার কারণ খুঁজতে গিয়ে জানলাম একটা couple এর pre-wedding shooting হবে। তারজন্য
ক্যামেরাম্যান ও হবু বরের চাহিদা অনুযায়ী জিনিসপত্রের যোগান দিতে ও suitable spot
ready করে দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।এরপর দেখলাম ক্যামেরা ও ভ্রূণের setting হয়ে
যাবার পর সেজেগুজে নেমে এল হবু কনে।বিভিন্ন pose এ হল solo suiting! তারপর ধবধবে
সাদা dressএ নেমে এল হবু বর।তারও কিছুক্ষণ
solo suiting এর পর শুরু হল যুগল বন্দি দুজনের pose ক্রমশঃ ঘনিষ্ঠ হতে ঘনিষ্ঠ হতে শুরু
করল। কিছুক্ষণ পর আমাদের গ্রহণযোগ্য সীমা অতিক্রম করলে আর বসে থাকতে পারলাম না
।ঘরে ফিরে আসতে বাধ্য হলাম। Dinning hallএ আলাপ করে জানলাম ওরা
এসেছে মুর্শিদাবাদ জেলার জিৎপুর থেকে।
মফস্বলের পাত্র-পাত্রী বিয়ের আগে অভিভাবক ছাড়া বন্ধুদের সাথে ক্যামেরাম্যান
ও মেক আপ woman নিয়ে এসে এতদূরের homestay তে এসে overnight থেকে super
ঘনিষ্ঠ poseএ indoor-outdoor
স্যুটিং করছে দেখে বুঝলাম generation-Zআমাদের সামাজিক অনুষ্ঠানে
কত আধুনিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। বুঝলাম বিয়ে এখন দুই নরনারী ও পরিবারের মধ্যে শুধু
সামাজিক বন্ধনের অনুষ্ঠান নয়, এটা একটা বড় budget এর industry.যার ওপর
নির্ভর করে কিছু লোকের জীবনযাত্রা চলছে।এটা একটা আমাদের কাছে কাফেরগাঁও ভ্রমণের
অপ্রত্যাশিত নতুন এক অভিজ্ঞতা। আজ আমাদের এখানে শেষ সন্ধ্যা। ব্যালকনিতে চায়ের
আসরে বসে নেশার বশে কাঞ্চনজঙ্ঘার দিকে তাকিয়ে থাকলাম। আমাদের প্রার্থনায় সাড়া
দিয়ে। মেঘের আড়াল থেকে অস্তগামী সূর্যের আলোয় উদ্ভাসিত সোনালি-গোলাপী চূড়া অল্প
কিছুক্ষণের জন্য দেখা দিয়ে আমাদের বিদায়
জানালো। 
সান্ধ্য চা ও কাকাঞ্চনজঙ্ঘার দর্শনপর্ব শেষ হলে আমরা গেলাম রান্নাঘরের সঙ্গে attached ছোট্ট একটা গিফ্ট শপে।দোকান টা ছোট হলেও ছিল choicable exclusive সব গিফ্ট ভরা।আমাদের দাদা-বৌদি নিজেদের এবং বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনদের জন্যে বিভিন্ন রকমের souvenir কিনলেন।আমাদের তেমন ইচ্ছা হলনা।শেষ নৈশভোজ মুরগীর মাংস আর রুটি সহযোগেই হল।নৈশভোজের পর
Suitcase গুছিয়ে বিছানা নিলাম।আসার
দিন ভোরবেলায় পর্দা পড়িয়ে আর আমাদের সুন্দরীর দেখা মিলল না।সে সম্পূর্ণভাবে hubernationএ
চলে গেছে মেঘের আড়ালে। সকালের চা পানের আসরের পর আমাদের প্রধান target ছিল Buddhist
monastryযেটা অবস্থিত এখানকার dinning hall এর ঠিক ওপর 1st floor এ।এটা
homestayর মালিক সুনীল তামাং এর সমস্ত পরিবারের প্রার্থনার জায়গা। আমরা সকলে monastry
ও তার পরিবেশ দেখে ভীষণই অভিভূত হলাম।
পুরো একটা বড় public monastryর যেন ক্ষুদ্র সংস্করণ। ভগবান বুদ্ধের কাছে সকলের
মঙ্গল কামনা করে ও আশীর্বাদ নিয়ে লুচি সিদ্ধ ডিম সহযোগে breakfast করে ঘরে ফিরে
আসতে আসতে 10টা বেজে গেল।আর ঘন্টা খানেকের মধ্যেই ছেড়ে দিতে হবে ঘর।Washroom এর কাজকর্ম শেষ করেfinal packing করে শেষ বারের মতো view point এর আড্ডাতলায় এসে বসলাম 11টা নাগাদ।
কথামতো spl lunch তৈরি হবে আমাদের জন্য। অপেক্ষা করতে হবে এখনো প্রায়
দুঘণ্টা। অন্য আরেক বিদায়ী পার্টির সঙ্গে বেশ আড্ডা জমে গেল।বিভিন্ন ধরনের topic নিয়ে
আলোচনা হতে হতে ঘন্টা খানেক সময় কেটে গেল। ইতিমধ্যে ওনাদের গাড়ি চলে এল।আমাদের
সঙ্গে photo session করে ওনারা বিদায় নিলেন অন্য spot এর উদ্দেশ্যে।
Homestay
familyর দুজন young সদা হাসিখুশি member এর service ও ব্যবহারে
আমরা ভীষণ খুশী হয়েছিলাম। ওদের সঙ্গে photo তুলে স্মৃতির মণিকোঠায় সাজিয়ে রাখলাম।
আমাদের কাছ থেকে এমন মধুর response পেয়ে ওরাও আনন্দে আত্মহারা। এরপর ওদের সমস্ত
পরিবারের সঙ্গে ছবি তুলে ও সবাইকে দিওয়ালি ও কালীপুজোর আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে
মধ্যাহ্নভোজ নাড়তে গেলাম। ইতিমধ্যে আমাদের গাড়ি চলে আসায় suitecase ও ব্যাগ সব
গাড়ির মাথায় load হতে থাকল। আমাদের খাওয়া চলাকালীন নতুন tourist পার্টির আগমনে hall ভরে
গেল।মধ্যাহ্নভোজ সেড়ে তাদেরকে জায়গা করে দিয়ে আমরা গুটি গুটি পায়ে গাড়ির দিকে
এগোলাম। কাঞ্চনজঙ্ঘার নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করতে করতে relax mood এ কাফের হোমস্টে
তে চার রাত ও চার দিন কাটানোর আনন্দ- মধুর স্মৃতি নিয়ে বিদায় নিলাম।









মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন