Scandinavia-2
স্ক্যানডেনিভিয়া-দ্বিতীয় পর্ব
আজ একটু বেশি সকালেই ঘুম থেকে উঠতে হল, কারণ প্রাতঃরাশের পরই ছেড়ে দিতে হবে Scandic হোটেল। তাই একদম packing final করে নামতে হবে প্রাতঃরাশ উদ্দেশ্যে। পরিকল্পনা মতো প্রাতঃকৃত্য ও স্নানসেড়ে dinning hallএ গেলাম। গতকালের মতোই নানান ধরনের প্রাতঃরাশের itemদেখে মন ভরে গেল ।বিভিন্ন ধরণের ফল থেকে শুরু করে দুধ cornflex , সিদ্ধ ডিম, bread ,item, chicken nuggets, becon, meat balls, নানা ধরনের yoghurt, fruit juice, nuts, noodles, নানা ধরনের desert, কি নেই? আজ সারাদিন হেলসিঙ্কি শহর ঘুরে বিকালে আমাদের আবার জাহাজে চড়ার পালা। তাই complementary breakfast এর পুরোমাত্রায় সদ্ব্যবহার করে পেট একদম ডাব্বু করে নিলাম over eating করে।যথাসময়ে বাস চলে এলে আমরা হোটেলের ঘর থেকে check out করে Hotel Scandic কে বিদায় জানিয়ে একে একে luggage নিয়ে বাসে চড়ে পছন্দমতো seat দখল করলাম। এরপর বাস পরিচ্ছন্ন হেলসিঙ্কি শহরের সবুজের সমারোহ ভেদ করে মাখনের মতো মসৃণ রাস্তার ওপর দিয়ে ছুটে চলল তীব্র গতিতে। অচিরেই পৌঁছলাম আমরা শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রথমেই পৌঁছলাম অনেকটা জায়গা জুড়ে থাকা একটা বিখ্যাত ক্যাথিড্রালের সামনে। এটা হেলসিঙ্কি ডাইওশেসের ফিনিস ইভানজেলিক লুথার ক্যাথিড্রাল।হেলসিঙ্কি ক্যাথিড্রাল নামেই জনপ্রিয়। ১৮৩০থেকে শুরু করে ১৮৫২ সালে শেষ হয় এটা নির্মাণের কাজ। বিশাল আকার নিয়ে ১৭৩ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে হেলসিঙ্কি সেনেট স্কোয়ারের মুখোমুখি। সেনেট স্কোয়ারে বাস থেকে নেমে অনেক সিড়ি ভাঙার পর পৌঁছলাম প্রবেশ দ্বারে।ভেতরের অদ্ভুত নিঃশব্দ নীরবতায় মুগ্ধ ও মোহিত হয়ে আমরা কিছুক্ষণ প্রভু যীশুখ্রীষ্টের দিকে চেয়ে স্থির হয়ে বসে প্রার্থনা করে এক চরম মানসিক শান্তি উপলব্ধি করলাম। এরপর ভিতরটা ঘুরে দেখার সাথে সাথে আমাদের উপস্থিতির স্মৃতি ধরে রাখার জন্য সচল মোবাইল ও ক্যামেরা ব্যস্ত হয়ে পড়ল। এরপর নেমে এলাম হেলসিঙ্কি সেনেটস্কোয়ারের উন্মুক্ত বিশাল বিস্তৃত এলাকায়। এই জায়গাটায় ও হেলসিঙ্কি ক্যাথিড্রালের সিঁড়িতে প্যারেড , প্রতিবাদ ও বিভিন্ন ধরণের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।আমাদের এর পরের গন্তব্যস্থল ছিল হেলসিঙ্কি লাইব্রেরি। লাইব্রেরিতে নেমে আমরা অভিভূত হয়ে গেলাম infra structure দেখে। Guide এর কাছে জানতে পারলাম এটা বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্ববৃহৎ জ্ঞান আহরণের জায়গা। পড়াশোনার যাবতীয় বইয়ের সম্ভার ছাড়াও এখানে সঙ্গীত, নাটক, বিভিন্ন ধরণের বাদ্যযন্ত্র, ঐতিহাসিক ঘটনার জীবন্ত উপস্থাপনা, entrepreneurship প্রশিক্ষণ, consultancy meeting, সেমিনার, কনফারেন্স, brain storming সহ যাবতীয় জিনিস শেখার ব্যবস্থা আছে। একদল বাচ্চাকে পর পর টেবিলে বসে দাবার চর্চা করতে ও প্রশিক্ষণ নিতে দেখে এই পুস্তকালয়ের জ্ঞান আহরণের ব্যাপ্তির ব্যাপারে আরও সম্যক ধারণা হল।আর অজস্র কম্পিউটার ছাড়া সোফা, আরাম কেদারা, স্ন্যাকস ও কোল্ড ড্রিঙ্কস vending machine, ২৪ঘন্টা খোলা canteen ইত্যাদির অঢেল ব্যবস্থা যাতে নিশ্চিন্ত মনে relax করে পুস্তকালয়ের সদ্ব্যবহার করা যায়। ভাবছিলাম এমন দেশে পড়াশোনা করতে পারলে ধন্য হয়ে যেতাম। তার ওপর guide এর জেনেছি এখানকার সমস্ত tax payer দের ছেলেমেয়েদের শিক্ষার জন্য কোন পয়সা লাগেনা। অর্থাৎ এখানকার ছাত্ররা বিনা পয়সায় এমন অত্যাধুনিক লাইব্রেরি ব্যবহার করার সুযোগ পায়।আমাদের কাছে একেবারেই অভাবনীয়। এইজন্যই হয়তো এখানে শিক্ষার মান ও প্রযুক্তিতে এরা এত উন্নত এবং functional literacy র হার ও অনেক বেশী হওয়ায় সংস্কারমুক্ত। এইসব ভাবতে ভাবতে বেড়িয়ে আসার সময় guideকে অনুসরণ করতে করতে বই আদানপ্রদানের জায়গায় আসতেই বুঝলাম আরো বিস্ময় অপেক্ষা করছিল আমাদের জন্য। দেখলাম রোবটের সাহায্যে বইয়ের আদানপ্রদান। লাইব্রেরিতে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ দেখে মন জুড়িয়ে গেল আর নিজেকে ধন্য মনে করলাম। বিশ্ব বিখ্যাত লাইব্রেরির সামনে দাঁড়িয়ে বিদায় বেলায় নিজেরা কিছু ছবি তুলে আবার অপেক্ষারত বাসের দিকে রওনা হলাম। আমাদের পরবর্তী গন্তব্যস্থল ছিল টেম্পোলিয়াকত চার্চ।এটা একটা rocks কেটে তৈরী অদ্ভুত স্থাপত্যের নিদর্শন। Directly solid rocks এর মধ্যে তৈরী বলে একে rock church ও বলা হয়। টিমো এবং টিওমো নামে architect ভাতৃদ্বয় এই চার্চের design ও নির্মাণ করেন।১৯৬৯ সালে এই চার্চ জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। হেলসিঙ্কির এখন অন্যতম প্রধান ভ্রমণ আকর্ষণ হল এই চার্চ। নতুন ধরণের এই open রকচার্চে মুন হয়ে বসে এক অদ্ভুত অনুভূতি হল।রকি ঢাল থেকে বিশাল উঁচু উঁচু পুরানো design এর অট্টালিকা ভেদ করে বেশ কিছু টা হেঁটে নেমে এসে পরবর্তী গন্তব্যস্থল যাবার উদ্দেশ্যে বাসে উঠে বসলাম। বেশ কিছু বড় বড় হাসপাতাল, কলেজ ও অফিস buildings অতিক্রম করে হেলসিঙ্কি হারবারের দিকে এগিয়ে চলেছে বাস । কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা পৌঁছে গেলাম হেলসিঙ্কি হারবারে। সেখানে বাস আমাদের নামিয়ে সময় সীমা দিয়ে দিল কিছুক্ষণ ইচ্ছামতো ঘুরে বেড়ানোর জন্য। প্রথমেই দৃষ্টি আকর্ষণ করল হেলসিঙ্কি স্কাই হুইল। এই স্কাই হুইল 40মিটার বা 130 ফুট উঁচু। এটার একটা কেবিন স্কাই সৌনা পৃথিবীর প্রথম সৌনা যেটা 1914 সালের 3রা জুন জনগণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। স্কাই সৌনা হল এমন একটা কেবিন যেখানে বসে গরম বাষ্প নিতে নিতে শহর ও হারবারের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। হইলের পাশ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গেলাম একটা সুন্দর cathedral এ।নাম উস্পেন্সকিন ক্যাথিড্রাল।এটা একটা ফিনল্যান্ডের eastern orthodox cathedral এবং dormition (death resembling falling asleep) of virgin Mary র প্রতি উৎসর্গিত।এরপর হাঁটতে হাঁটতে আমরা চলে এলাম হারবারের একদম কাছে। উপসাগরের এই বন্দর দিয়ে প্রতি বছর 37000 আন্তর্জাতিক যাত্রী ক্রুজে প্রতি বছর যাতায়াত করে।এছাড়া 10 লক্ষ টন জিনিস cargo ship এর মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় পরিবাহিত হয়। কাছাকাছি এসে দেখলাম 8টা বিভিন্ন বড় বড় জেটির কাছে আন্তর্জাতিক জাহাজ , speed boat, local ferry boat, tourist entertainment boat ইত্যাদি দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের সামনেই কয়েকটা tourist boat ছেড়ে গেল আনন্দে উৎফুল্ল যাত্রীদের নিয়ে। চারদিকে ঘুরতে ঘুরতে চোখে পড়ল বিভিন্ন ধরনের খাবার আর souvenir এর দোকান। কিছু souvenir আমাদের ও দৃষ্টি আকর্ষণ করল।হেলসিঙ্কির স্মৃতি ধরে রাখার জন্য নূন্যতম € খরচ করে কয়েকটা fridge magnet কিনলাম। কিছু snacks আর fruits সেবন করতে করতেই আমাদের বাসে ফেরার সময় হয়ে এল। বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়া group এর সহযাত্রীরা একে একে হাজির হল বাসে বিভিন্ন উপকরণ আর অভিজ্ঞতা নিয়ে। চলন্ত বাসে নিজেদের মধ্যে সেইসব অভিজ্ঞতার ঝুলি নিজেদের মধ্যে আদানপ্রদান করতে করতে এগিয়ে চললাম আমরা আমাদের স্টকহোমগামী জাহাজের বন্দরের দিকে। বন্দরে নেমে প্রয়োজনীয় সামগ্রী potable hand bag এ নিয়ে বড় luggage hand over করে দিতে হল জাহাজের store roomএ রাখার জন্যে।এরপর জাহাজের প্রবেশ দ্বারের কাছে বিশ্রামাগারে এসে দেখি বিশালাকায় এক জাহাজ অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। আমরা বিভিন্ন দিক থেকে ছবি আর selfie নেবার লোভ সামলাতে পারলাম না।আমাদের tour ম্যানেজার শঙ্কুবাবু ইতিমধ্যে ticket collect করতে চলে গেছেন সবার জন্য। উনি ফিরে আসতেই line দিয়ে আমরা একে passport আর ticket swipe করিয়ে জাহাজের ভেতর পা রাখলাম। দুর্ভাগ্যবশত আমরা sea view কেবিন পেলাম না।তাই বেশ হতাশ হলাম আর ঠিক করলাম দিনের maximum timeআমরা higher floor এর deckএ থাকব। সেইমতো চলমান জাহাজের ডেক থেকে হেলসিঙ্কি শহর, আশে পাশের অনেক দ্বীপ আর নীল সমুদ্রের নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করতে করতে চললাম। ইতিমধ্যে দিনমণির অস্ত যাবার সময় হয়ে এল। অসাধারণ এক সূর্যাস্তের দৃশ্য আমাদের মুগ্ধ করল।"যাহা দেখিলাম জন্ম জন্মান্তরে ভুলিবনা।ইতিমধ্যে ই প্রচুর continental spread ও drinks item সমৃদ্ধ buffe dinner সাড়া হয়ে গেছিল।দিনের কাজকর্মের প্রতি ইতি জানিয়ে আরামদায়ক কেবিনের বিছানায় ক্লান্ত দেহটাকে এলিয়ে দিয়ে অচিরেই নিদ্রায় ঢলে পড়লাম। কিছু নির্বাচিত ছবি share করলাম।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন