স্ক্যানডিন্যাভিয়া- সপ্তমপর্ব




আজ আবার শুরু হল আমাদের
যাত্রা নরওয়ের আরো প্রাকৃতিক সম্পদের
সন্ধানে। প্রতিদিনের মতো সবাই নিজের তল্পিতল্পাসহ বাসে উঠে বসলাম। যতই বাস এগোতে
থাকলাম, বিভিন্ন ধরণের বনরাশি ও পাহাড় হাজির হল নিজস্ব সৌন্দর্য নিয়ে। কাউকেই উপেক্ষা
করা গেল না।তবে ধীরে ধীরে বেশী করে দেখা দিতে লাগল পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝর্ণা।।
জানা গেল এর পরের প্রধান আকর্ষণ glacier বা হিমবাহ। বেশ কিছুটা রাস্তা আরো পাহাড় আর ছোট ছোট ঝর্ণার মধ্যে দিয়ে 


আসার পর আমাদের বাস যেখানে থামল সেখান থেকে দেখলাম একটু বড় আকারের toto র মতো গাড়ি round trip দিতে ব্যস্ত। সেই রকম কয়েকটা গাড়িতে আমরা 24 জন তিনটে গাড়িতে করে পাহাড়ি রাস্তায় ঘুরে ঘুরে চড়তে থাকলাম। চারিদিকের পাহাড় বনরাশি ও ঝর্ণার মাঝে দিয়ে এই যাত্রা লাগছিল ভীষণ ই রোমাঞ্চকর।





অনেক European ট্যুরিস্টদের দেখলাম হেঁটে হেঁটে প্রকৃতির রস উপভোগ করতে করতে উপরে উঠতে। আমাদের যান একটা নির্ধারিত জায়গায় এসে আমাদের নামিয়ে দিল হিমবাহ থেকে প্রায় 2 কিমি দূরে। এর আগে পরিবেশ দূষণ জনিত কারণে ওর যাবার অনুমতি নেই।আমাদের নামিয়ে অপেক্ষারত অন্য ট্যুরিস্টদের নিয়ে নীচে নেমে গেল।এইভাবেই এদের cycle চলতে থাকে, যেকোনো ট্যুরিস্ট যেকোনো গাড়িতে উঠতে পারে। কোন specific গাড়ির বাধ্যবাধকতা নেই।কিছুটা মালভূমির মতো উঁচু, নীচু ও সমতল জমির উপর দিয়ে সসবুজের সমারোহ ভেদ করে প্রায় এক কি.মি যাবার পর দূরে চোখে পড়ল অদ্ভুত এক দৃশ্য।দুটো পাহাড়ের মাঝখানে অনেকটা জায়গা যেন হালকা সবুজ আভরণে আবৃত হয়ে আছে আর পাহাড়ের গা দিয়ে যেন ঝুলছে এক সবুজ সুতো। ধরেই নিলাম হালকা সবুজ হিমবাহ থেকে বরফ গলে নেমে আসা সবুজ জল প্রবাহ সৃষ্টি করেছে এই অপরূপ দৃশ্য ।



এই জায়গায় হিমবাহ পেছনে রেখে ছবি তোলার লোভ সামলানো গেল না। এরপর
হাঁটতে হাঁটতে যত এগোতে থাকলাম আমাদের ধারণা দৃঢ় হতে থাকল। যাত্রাপথে এক জায়গায়
দুটো বিশাল পাথরের উপরিভাগে জোড়া লেগে সৃষ্টি হয়েছে যেন হিমবাহ এলাকায় ঢোকার উন্মুক্ত প্রবেশদ্বার। তার মধ্যে দিয়ে পৌঁছলাম এক লেকের সামনে। পাহাড়ের উপরের হিমবাহ থেকে নেমে আসছে হালকা সবুজ স্বচ্ছ জলের ধারা, সেই জল একত্রিত হয়ে লেকের আকার ধারণ করেছে।


আর লেক থেকে জল প্রবাহ নালার আকৃতিতে সরু হয়ে বয়ে যাচ্ছে সমতলের দিকে। সমগ্র দৃশ্যের অপরূপ সৌন্দর্য ভাষায় অবর্ণনীয়। মুগ্ধ হয়ে বহুক্ষণ ধরে চেয়ে চেয়ে দেখলাম। ঈশ্বরকে অশেষ ধন্যবাদ জানালাম এই অপরূপ সৃষ্টির জন্য, আর এই দৃশ্য চাক্ষুষ উপভোগ করতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করলাম।সময় সীমিত, তাই অনিচ্ছায় অচিরেই চলে
আসতে হল এমন সুন্দর মায়াবী জায়গা ছেড়ে। একই পথে কোন একটা অপেক্ষারত গাড়ি করে নেমে
এলাম নীচে বাসের কাছে। বাকি সব সহযাত্রী অনেক আগেই পৌঁছে গেছে। বাস যেন আমাদের
জন্যেই অপেক্ষা করছিল! আমরা উঠতেই শুরু হল যাত্রা পরবর্তী দ্রষ্টব্যস্থানের দিকে।
মন ক্যামেরা থেকে এই অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলো চোখের সামনে ভাসিয়ে নিয়ে উপভোগ
করতে করতে চললাম। কিছুক্ষণ এইরকম স্বপ্নিল জগতে নিমজ্জিত থাকার পর আমরা প্রবেশ
করলাম একটা ছোট শহরের মধ্যে। বাস একটা জনবসতিপূর্ণ এলাকায় নামিয়ে দিল আমাদের। আকাশ
তখন ভীষণ মেঘলা আর বৃষ্টি হওয়া হওয়া ভাব।আমরা হেঁটে চলেছি একটা গলির মধ্যে দিয়ে।
চারিপাশে আমাদের উত্তর কলকাতার বনেদি বাড়ির design এর সব বাড়ি। কিছুক্ষণ মনে
হচ্ছিল বাগবাজারের গলির মধ্যে দিয়ে হাঁটছি। শঙ্কুবাবুকে অনুসরণ করতে করতে আমরা
পৌঁছলাম এক funicular

ride এর স্টেশনের সামনে। এই ride টা অনেকটা cable car আর toy train এর মাঝামাঝি
ব্যপার এটাতে চড়ে উঠে যাব অনেকটা উঁচু একটা view point এ।শঙ্কুবাবু আমাদের সবাইকে ticket
hand over করার পর, ticket swipe করিয়ে gate দিয়ে ভিতরে ঢুকে funicular
train এর জন্যে wait করতে থাকলাম। গর্জন করতে করতে নেমে এল train ওপর থেকে
যাত্রীদের নিয়ে। এবার আমাদের উপরে যাবার পালা। নেমে আসা যাত্রীদের deboarding করিয়ে
cable car এর মতো box slow হয়ে আমাদের সামনে ঘুরে
আসতেই চলন্ত বক্সে উঠে পড়তে হল।তারপর পাহাড়ের slope এ বিশেষভাবে তৈরি line এর
উপর দিয়ে গড় গড়িয়ে ছুটে চলল গর্জন করতে করতে। নেমে একটু এগোতেই আমাদের সামনে
উন্মুক্ত হল এক বড় এলাকা জুড়ে থাকা view point.

বেশ জোরে বয়ে যাওয়া ঠান্ডা হাওয়ার
মধ্যে নীচের বারজেন শহর, সমুদ্র, জাহাজ ও
দ্বীপের চোখ জুড়ানো দৃশ্য। মনে হচ্ছে যেন স্বর্গ উঠে গেছি আর সেখান থেকে দেখছি
পৃথিবীর অপূর্ব রূপ। প্রচুর বিভিন্ন দেশ বিদেশের ট্যুরিস্টদের উপস্থিতিতে জায়গাটা
গমগম করছে। সবার মধ্যেই চলছে ভালো view পাবার জন্য প্রতিযোগিতা ফলে ঠেলাঠেলি ও
চলছে ভালো জায়গা পাবার জন্য। আমরাও একইভাবে একদম সামনে গিয়ে সুন্দর একটা জায়গা
নিয়ে উপর থেকে চারদিকের 360 degrees viewউপভোগ করতে অভিভূত হয়ে পড়লাম। অনেকক্ষণ ধরে চেয়ে চেয়ে চোখ
ও ক্লান্ত হয়ে গেল। এরপর আমাদের নয়নাভিরাম দৃশ্যের
সঙ্গে নিজেদেরকে ক্যামেরা বন্দিকরে রাখার পালা।বিভিন্ন pose এ location এ অনেক ছবি তুললাম।ওদিকে শঙ্কুবাবুর warning শুরু হয়ে গেছে। অগত্যা একই পথে funicular ride নিয়ে নেমে আসতে হল। নীচে এসে দেখলাম বাস তখনও এসে পৌঁছায়নি । তাই শহরটা একটু ঘুরে দেখার হঠৎ পাওয়া সুযোগ হাতছাড়া করলাম না। আশপাশের বাজার ও ঘুরে দেখলাম তার সঙ্গে ফুটপাত দিয়ে চলতে চলতে দোকানের কাচের জানলা দিয়ে window shopping ও সারলাম।ঝিরিঝিরি বৃষ্টি শুরু হওয়ায় বেশী ঘুরতে পারলাম না।ভাগ ভাগ করে সবাই দোকানের shade এর নীচে দাঁড়িয়ে বাসের জন্যে অপেক্ষা করতে থাকলাম। বাস এসে গেলে একে একে উঠে বসলাম ।একটা exhaustive ও তৃপ্ত day trip এর পর সবাই এখন বেশ ক্লান্ত ও ক্ষুধার্ত।


গত তিনদিন continental cuisine খাবার পর আজ আবার নৈশভোজের জন্য শঙ্কুবাবু নিয়ে গেল আবার এক Indian restaurant এ, যেটা আমাদের তিনজনের একদম পছন্দের নয়, তাই মন খারাপ হয়ে গেল। বিস্বাদ খাবার খেয়েই পেট ভরাতে হল।ভারতীয় restaurant এ খাবার সময় একটা জিনিস লক্ষ্য করলাম। European দের কাছে এই restaurant এর খাবার খুব জনপ্রিয়। আমাদের ভারতীয়দের জন্য table থাকত আলাদা করে markকরা, কারণ আমাদের খাবার table এ জলের দরকার হয়। টেবিলে রাখা জলের jug ও glass দেখে বোঝা যেত ওটা আমাদের জন্য নির্ধারিত। Local customerরা mealএর সঙ্গে খেত beerবা wine.নৈশভোজের পর বাস নিয়ে গেল আমাদের জন্যে নির্ধারিত সুন্দর এক হোটেলে। ঘরে ঢুকে মন খুশীতে ভরে গেল আর আমরা প্রবেশ হয়ে পরের দিনের জন্য প্রস্তুতি সেড়ে নরম বিছানার কাছে ক্লান্ত দেহকে সমর্পণ করে দিনের ইতি টানলাম।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন