স্ক্যানডিন্যাভিয়া- ষষ্ঠ পর্ব
স্ক্যানডিন্যাভিয়া- ষষ্ঠ পর্ব
প্রাতঃরাশ সেরে যথারীতি সকাল সকাল তৈরি হলাম বেরনোর জন্য। আজ আর সঙ্গে ভারী luggage নিতে হল না ,কারণ আজও সারাদিন এখানকার আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক দৃশ্য ও সুন্দর প্রযুক্তির রাস্তা ঘাট ও মনমুগ্ধ পরিবেশ উপভোগ করে ফিরে আসতে হবে এখানেই।
গতকালের মতোই অসাধারণ মসৃণ রাস্তার উপর দিয়ে বাসে করে নদী, পাহাড়, বনরাশি, তৃণভূমির ও ঝর্ণার মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে করতে চললাম। মাঝে মাঝে চোখে পড়ছে ছোট ছোট জনবসতি। ছোট ছোট বাচ্ছারা সাইক্লিং করছে, ছুটে বেড়াচ্ছে, লেক এ সাঁতার কাটছে আবার কেউ freehand ব্যায়াম ও করছে। বাসের জানালায় চোখ যেন আঠার মতো লেগে আছে। বিভিন্ন দৃশ্য দেখতে দেখতে মোহিত হয়ে গেছি।
এমনসময় বাস একটা বেশ চওড়া একটা নদীর ধারে এসে থামল।নদীর ধারে তখন একটা বেশ মায়াবী পরিবেশ। আবহাওয়া বেশ ঠাণ্ডা, ঘন কুয়াশায় নদীর দিকের visibility বেশ কমে গেছে। আর রাস্তার ধারের ঝাউবনের উপর মেঘ নেমে এসে প্রায় অর্ধেক ঢেকে ফেলেছে। আমাদের বাসসহ পার হতে হবে নদী মাঝারি সাইজের এক জাহাজে করে।
জানালার ধারে বসে জলপথের দৃশ্য উপভোগ করতে করতে চললাম। ক্রুজটা নদীর এপারে প্রায় এসে গেছে তখন আমার ছোট toilet এর pressure এল। Aeroplane এ যেমন landing এর আগে toilet যাওয়া নিষেধ, এখানেও সেরকমই নিয়ম anchor করার আগে। আমি toilet এর সামনে এসে দরজা বন্ধ দেখে ভাবলাম ভেতরে কেউ আছে। তাই wait করতে করতে মনে হল ক্রুজ প্রায় anchor করে যাচ্ছে। আমি desperate হয়ে ক্রুজের staff খুঁজতে থাকলাম। যতক্ষণে দেখা পেলাম deboarding শুরু হয়ে গেছে। আমার অনুরোধে "Oh dear!" বলে মাথা নাড়তে নাড়তে lockখুলে দিল আর আমিও relieved হলাম। এদিকে বেড়িয়ে এসে দেখি আমাদের বাস তো cruise থেকে নেমেই গেছে landএ আর এদিকে cruise প্রায় return এর জন্যে তৈরী। বিপদ দেখে ছুট্টে cruise এর gate দিয়ে বেরিয়ে রাস্তায় এলাম। কিন্তু হায় হায়! রাস্তায় এসে দেখি বাস ও বেপাত্তা!
আসলে কেউ খেয়াল করেনি যে আমি শেষ মূহুর্তে toiletএ গেছি। আমার স্ত্রী ও পুত্রকেও বলে যাইনি ।আর বসেছিলাম তিনজনই আলাদা আলাদা জানলার ধারে। ফলে আমার অনুপস্থিতি আপাতদৃষ্টিতে কেউই খেয়াল না করায় ড্রাইভারকেও সচেতন করা হয় নি, তাই ও আমাকে ফেলে ই এগিয়ে গেছে বাস নিয়ে পরবর্তী গন্তব্যস্থলের দিকে। এদিকে আমার phone এ international roaming package নেই, আমার স্ত্রী আর ছেলে যেহেতু নিয়েছে আমি নেবার দরকার মনে করিনি, local sim ও নিইনি । তাই আমার যোগাযোগ করার কোন উপায়ই নেই। বেশ মানসিক চাপে পড়ে যাওয়া সত্ত্বেও মাথা ঠান্ডা রেখে ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকলাম । মনে হচ্ছিল শঙ্কুবাবু নিশ্চয় counting করে যখন দেখবে মিলছে না তখন ফেরত আসবে! ভগবানের আশীর্বাদে ঠিক তাই হল।মিনিট দশেক পরে দেখি বিপরীত দিক থেকে আসছে একটা luxury বাস, কাছে আসতে confirm হলাম আমাদেরই বাস। যখন ঘুরিয়ে নিয়ে আমায় তোলার জন্য দাঁড়াল স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ভগবানকে অশেষ ধন্যবাদ জানালাম। বলাই বাহুল্য স্ত্রীর রক্তচক্ষু সহ মৃদু ভর্তসনা ও সহযাত্রীদের সমালোচনার সম্মুখীন হতে হল। Apology চাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ মনে হল।তাই "I am so sorry" বলে আবার একটা জানলার ধারের জায়গা নিয়ে বসলাম।
এপারে এসে আবার শুরু হল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে বাসযাত্রা।
কিছুক্ষণ চলার পর লক্ষ্য করলাম এক অদ্ভুত সুন্দর রাস্তা দিয়ে আমাদের বাস চলেছে।রাস্তার দুপাশে সমুদ্রের নীল জলরাশি আর রাস্তাটা একটা উড়ান পুলে পরিণত হয়ে অপূর্ব সুন্দর দৃশ্য সৃষ্টি করেছে। এটাকে একটা প্রযুক্তিগত চমৎকারের নিদর্শন বলা যেতে পারে।
ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য এটা এক আকর্ষণীয় দ্রষ্টব্য স্থানে হতে বাধ্য। এই spot এর চারপাশে ঘোরাঘুরি করে উপভোগ করার জন্য প্রবেশ পথের মুখে নামতে হল আমাদের। একটা টিলার চারিদিক দিয়ে দিয়ে ঘুরে ঘুরে sloping রাস্তা দিয়ে হাঁটতে এক অদ্ভুত রোমাঞ্চকর অনুভূতি হল। এই অসাধারণ সুন্দর রাস্তাটাকে বলে আটলান্টিক রোড।
এই জায়গাটায় এসে নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে করলাম। আশা করি এখানকার ছবি গুলো আমার এই মন্তব্যকে justify করবে। আমরা বেশ অনেকটা সময় এখানে কাটালাম।তিনজনে বিভিন্ন পোজে অনেক ছবি তুললাম তিনজনে। একটা অসাধারণ spot দেখার ভীষণ মানসিক তৃপ্তি নিয়ে ঔ শঙ্করবাবুকে ধন্যবাদ জানিয়ে হোটেলে ফেরার জন্য বাসে চড়ে বসলাম। পুনরায় দৃষ্টিনন্দন সব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে চললাম। হোটেলে এসে freshহয়ে dinning হলের জানলার ধারে এসে Darjeeling tea- second flash এর tea bag দিয়ে liquor চা বানিয়ে পান করতে করতে কালকের মতো lake এর view উপভোগ করতে থাকলাম। কিছুক্ষণ পরে নৈশভোজের সময় হয়ে গেল। নৈশভোজে বিশেষ মেনু ছিল বড় আকারের সালমান মাছ।মন খুশীতে ভরে গেল। তৃপ্তি সহকারে খেয়ে নীচে কিছুক্ষণ হাঁটা চলা করে ঘরে ফিরে এলাম। পরের দিন হোটেল থেকে checkout. তাই suitcase গুছিয়ে, সমস্ত Gazette চার্জ দিয়ে একটা fresh shower নিয়ে শয্যাশায়ী হলাম।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন