স্ক্যানডিন্যাভিয়া ( চতুর্থ পর্ব )
নিয়মিত হোটেলের প্রাতঃরাশ অন্য দিনের তুলনায় একটু বেশ তাড়াতাড়াতাড়ি সারতে হল কারণ আজকে প্রায় আট ঘন্টা লম্বা সড়কপথ যাত্রা করে সুইডেন ছেড়ে ঢুকতে হবে নরওয়ে তে।সুন্দর হোটেলটা থেকে checkout করে সকাল সকাল আমরা বাসে ইচ্ছামতো স্থান গ্রহণ করে বসে পড়লাম। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই মনোরম হোটেল চত্বর ছেড়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলল আমাদের বাস। ট্যুর এজেন্সিদের সঙ্গে বেড়াতে যাবার প্রধান অসুবিধা হল, অত্যাধুনিক সব সুন্দর সুন্দর হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করলেও উপভোগ করার সুযোগ বা সময় থাকে না।স্টকহোমের শহর এলাকা থেকে বেরিয়ে আসার পর থেকেই আমাদের বাহন সবুজের সমারোহ ভেদ করে এগিয়ে চলল দুর্দান্ত গতিতে। কখনো বনরাশিমালা আবার কখনও বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ঘাসের কার্পেট আর মাঝে মাঝে সুন্দর নক্সার কাঠের বাড়ির দৃশ্য উপভোগ করতে করতে আমরা এগিয়ে চললাম। বাড়িগুলো সব বিশাল এলাকার চাষের জমি ও বাগান পরিবৃত । আশপাশে কোন জনমানবের দেখা মিলল না।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সারাদিন বিস্তীর্ণ তৃণভূমি, গভীর বনরাশি মালা, খরস্রোতা নদী , ঘন নীল জলের হ্রদের মধ্যে দূরের পাহাড় ও প্রকৃতির প্রতিফলনের মনোরম দৃশ্য দেখতে দেখতে মাখনের মতো রাস্তার উপর দিয়ে লম্বা বাসযাত্রা। অগত্যা চলন্ত বাসের মধ্যে থেকেই সচল রাখতে হল মন ক্যামেরা, mobile camera,ও DSLR. সবাই নিজের মতো করে স্থির ছবি ও video তুলতে তুলতে চললাম। এই লম্বা যাত্রায় বয়স্কদের জন্য toilet break দিতেই হল।বিশাল এক petrol pump এর মধ্যে
এসে দাঁড়াল বাস। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেবার পর সংলগ্ন departmental store ও খাবারের দোকান দেখে অনেকের ই পেটের চাহিদা অনুযায়ী top up এর প্রয়োজন হল।
আমার যুবক ছেলে অত্যুত্সাহী হয়ে credit card দিয়ে একটা hot dog কিনে মহানন্দা সেবন করল।তার পর debit alert র sms দেখে চোখ ছানাবড়া! একটা hot
dog এর জন্য 600 টাকা চলে গেল! বেশ কিছুটা মনমরা হয়েই বাসে উঠল।বোঝালাম ওদের currency valueকে টাকায় convert করলে সবসময় কিছু কিনলেই মন খারাপ হয়ে যাবে, enjoy করতে
পারবি না যেহেতু ওদের currency আমাদের থেকে অনেক stronger। ওদের দেশের unit
currency (Euro)র respectএ এখানকার জিনিসের দাম assess কর।

ব্যাপারটা ধীরে ধীরে
বোধগম্য হবার পর বাকি ট্যুরে দিনগুলোতে আর অসুবিধা হয় নি। যাই হোক এখান থেকে বাস
ছাড়ার পর আমরা একের পর এক ঘন সবুজের অভিযান আবার অতিক্রম করতে শুরু করলাম । তাছাড়া আসতে লাগল বড় বড় brand এর factory অনেকটা
জায়গা জুড়ে। IKEA আসবাবপত্রের factory, Volvo গাড়ির factory , Errickson ফোনের factoryর
পাশ দিয়ে যেতে যেতে বেশ রোমাঞ্চকর অনুভূতি হল।এইভাবে চলন্ত বাসের জানালা দিয়ে চোখ জুড়ানো দৃশ্য উপভোগ করতে করতে মনে
হল বাস একটা জায়গায় কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে আছে আর কিছু
document check হচ্ছে। জানালা দিয়ে
তাকিয়ে দেখলাম একটা জায়গায় নরওয়ের পতাকা টাঙানো আছে। বুঝলাম আমাদের বাহন নরওয়ে তে
প্রবেশের check post এসে দাঁড়িয়েছে। যখন বাস ছাড়ল আমরা নতুন দেশ নরওয়ের
মধ্যে প্রবেশ করে গেছি।প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও বেড়ে গেল। জনবসতির ঘনত্ব আরও কমে গেল
আর ঘরবাড়ির নক্সা তে পরিবর্তন চোখে পড়ল। বেশ কিছুক্ষণ যাত্রার পর মনে মনে হল আমরা
একটা ছোট শহরের মধ্যে ঢুকে পড়েছি।শহরের
মধ্যে কিছুদূর চলার পর আমাদের বাস দাঁড়াল গলির মধ্যে একটা বাড়ির সামনে। শঙ্কুবাবুর
ইশারায় একেএকে বাস থেকে নেমে ওই বাড়ির মধ্যে ঢুকলাম। ওটাই আমাদের নির্ধারিত হোটেল।
একে একে চাবি নিয়ে নিজেদের ঘরে প্রবেশ করে fresh হয়ে complementary coffee পান করে আশেপাশের জায়গা explore করতে বেরোলাম।

তখন সময় প্রায় 5টা। জায়গাটা
বনভূমি সমৃদ্ধ উঁচু পাহাড় ও তৃণভূমি
পরিবৃত এক শান্ত মিউনিসিপ্যাল শহর নাম লিলহ্যামার।এটা নরওয়ের অন্যতম জনপ্রিয়
মিউনিসিপ্যালিটি। আয়তন 478 বর্গ কিলোমিটার। লোকসংখ্যা প্রায় 29000. জনসংখ্যার
ঘনত্ব 60/বর্গ কি.মি.। শহরের topography undulating অর্থাৎ ঢেউ খেলানো। শহরের
একধার দিয়ে বয়ে গেছে একটা ছোট নদী।যারা সাইক্লিং, হাইকিং ও ঘোড়ায় চড়া ভালোবাসে, তাদের পক্ষে স্বর্গ।
লিলহ্যামার নরওয়ের এক প্রধান কলা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এখানকার মেহুগেন মিউজিয়াম, নরওয়ে অলিম্পিক
মিউজিয়াম ও লিলহ্যামার মিউজিয়াম খুব বিখ্যাত। 1994 সালে শীতকালীন অলিম্পিক অত্যন্ত
দক্ষতা ও সাফল্যের সঙ্গে আয়োজন করে সাড়া বিশ্বে সমাদৃত হয়েছিল। বিশেষ বিশেষ জায়গা
দেখে window shopping করতে করতে হোটেলে অপর
ফিরছিলাম। ছটার মধ্যে বন্ধ হয়ে গেল সব দোকান পাট।তাপমাত্রা ক্রমশঃ নামতে নামতে
তখন প্রায় 10-12ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড।
জনবসতিপূর্পণ এলাকার মধ্যে দিয়ে বিশেষ
ধরনের arcitecture এর নিদর্শন বহন করা বাড়ির গঠন দেখতে দেখতে ফিরে এলাম। হোটেলটিকে
কেন্দ্র করে 3 km radius এলাকা চারদিকে ঘুরে
দেখে ও স্মারক ছবি মন ক্যামেরা , চোখ ও মোবাইল ক্যামেরাবন্দি করে ফিরতে ফিরতে dinner
এর সময় হয়ে গেল। এই প্রথম এখানে পেলাম continental cusine. সত্যি কথা বলতে এই নৈশভোজের আইটেমগুলো Indian restaurant এর চেয়ে অনেক বেশী সুস্বাদু ছিল।
যারা আমিষাশী ও multicusine আইটেম এ
স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে, ইউরোপে তাদের ভারতীয় খাবারের বদলে স্থানীয় preparations অনেক বেশী তৃপ্তিদায়ী মনে হবে। আমার অভিজ্ঞতা থেকে এটা আমার ব্যক্তিগত
পরামর্শ বা সুপারিশ। নৈশভোজের পর tea-coffee
কাউন্টার থেকে উচ্চমানের লিকার চা পান করে
ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘুমোতে গেলাম। এখানকার তাপমাত্রা খুব কমই 20ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড
এর উপর যায়। তাই হোটেলের ঘরে a/c র কোন ব্যবস্থা নেই।বদলে আছে দেওয়ালে concealed heating system. এমন
কি শোবার আগে washroom গিয়ে একটা অজানা সুইচ টিপতেই দেখলাম মেঝেটা কেমন
গরম হয়ে গেল। পেলাম এখানেও concealer heating এর নমুনা।এক বিস্ময়কর নতুন অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে শেষ হল দিনটা।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন